শফিকুল ইসলাম, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই সন্তানের জনকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানির পর অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে প্রভাবশালীরা। উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের মধ্য চাত্রিশিরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী ওই প্রতিবন্ধী নারী ও তার পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে জানাযায়, গত প্রায় পাঁচ মাস পূর্বে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে পাশের বাড়ির দুই সন্তানের জনক ভ্যানচালক পলাশ সরদার। এ সময় ভুক্তভোগী ওই নারীকে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভয় দেখানো হয়। ভয়ে কাউকে কিছুই জানায়নি ভুক্তভোগী। এভাবে প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও বিষয়টি থাকে সবার অজানা। হঠাৎ প্রতিবন্ধী ওই নারীর গর্ভধারণের লক্ষণ সমূহ দেখা দিলে করানো হয় পরীক্ষা। তাতেই জনা যায় তিনি গর্ভবর্তী। গর্ভধারণের বিষয়টি সম্পর্কে ভুক্তভোগী ওই প্রতিবন্ধী নারীর কাছে জিজ্ঞেস করলে সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন তিনি।
এদিকে বিষয়টি জানাজানির পর অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় ছালাম মোল্লাসহ কতিপয় লোকজন। তাদের কথামতই এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ পর্যন্ত করতে পারেননি ভুক্তভোগী ওই পরিবারের লোকজন।
ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী নারীর মা জানান, ধর্ষণের আগে ও পরে ভয় দেখানো হয় তার মেয়েকে। যে কারণে কাউকে কিছু জানাননি তিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন কিছু প্রভাবশালীরা।
তবে ধামাচাপা নয়, বিষয়টি নিয়ে আপোস-মীমাংসার কথা বলা হয়েছে বলে জানান ছালাম মোল্লা।
ধর্ষণের কথা অস্বীকার করে অভিযুক্ত পলাশ সরদার জানায়, সে ওই নারীকে ঠিকমত চিনেনই না। ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আর অর্থের বিনিময়ে ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপার সর্ম্পকে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, চাত্রিশিরা গ্রামের প্রতিবন্ধী ওই নারী ধর্ষণের ঘটনায় থানায় কেউ কোন অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




