যেভাবে চলে অপারেশন ‘মিডনাইট হ্যামার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সুপরিকল্পিতভাবে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিমান চলাচালের ওপর নজর রাখে এমন সংস্থাগুলো এবং মিডিয়াকে ধোঁকা দেয়ার জন্য তাদের ছিলো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাষ্ট্রের হোয়াইটম্যান বিমান ঘাঁটি থেকে ৮টি বি-২ স্পিরিট বোম্বার উড্ডয়ন করে পশ্চিম দিকে যাত্রা শুরু করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং করেন এমন অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, বিমানগুলোর সাথে মাঝপথে যোগ দিয়েছে বেশ কিছু রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট। খোলা সাগরে যাওয়ার পর বোম্বারগুলো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের সাথে যোগাযোগ করে।

বিমানগুলোর গন্তব্য ছিলো প্রশান্ত মহাসগরের দ্বীপ গুয়ামে। ওই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এটা এমন এক সময়ে যখন ট্রাম্প ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণে দুই সপ্তাহ সময় নেয়ার কথা জানান। এর ফলে মনে করা হয়, ইরানে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে বিমানগুলো গুয়াম দ্বীপে পাঠানো হয়েছে। যদি কূটনীতি ব্যর্থ হয় তাহলে হামলা করা হবে। আসলে পুরো বিষয়টি ছিলো ইরানসহ সকলের চোখে ধোঁকা দেয়ার জন্য। কারণ ট্রাম্পের আসল পরিকল্পনার কথা জানতেন মাত্র কয়েকজন লোক।

মিসৌরি থেকে যাত্রা করা ৮টি বি-২ বোম্বার যেদিন পশ্চিম দিকে প্রশান্ত মহাসগর পাড়ি দিতে শুরু করে, ঠিক একই দিন একই ঘাঁটি থেকে আরো সাতটি বি-২ বোম্বার উড্ডয়ন করে পূর্ব দিকে চলতে শুরু করে। দ্বিতীয় ব্যাচের এই বোম্বারগুলো পূর্ব দিকে আটলান্টিক মহাসগার পাড়ি দেয় নিরবে। গোপনীয়তা রক্ষায় এই সাতটি বোম্বার নিজেদের মধ্যে কোন ধরণের যোগাযোগ করেনি, এমনকি মাটিতে থাকা কন্ট্রোল টাওয়ারের সাথেও কথা বলেনি একবারের জন্য। যার ফলে বিমানগুলোর উড়ে চলা কেউ টের পায়নি।

সাতটি বোম্বার মোট ১৪ জন ক্রুকে নিয়ে শুক্রবার রাতের পর শনিবার সারদিন উড়ে চলে। মাঝপথে বিমানগুলোকে আকাশে জ¦ালানী দেয় ইউরোপ থেকে আসা কিছু ট্যাঙ্কার। এই ট্যাঙ্কারগুলো কয়েক সপ্তাহ আগেই ইউরোপে পাঠিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবার মধ্যরাতে বোম্বারগুলো ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে প্রবেশ করে। তাদের যে মিশনে পাঠানো হয়েছে সেটির কোডনেম ছিলো মিডনাইট হ্যামার। সেটি সম্পন্ন করার জন্য বোম্বারগুলোর সাথে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো ফাইটার জেট ও নজরদারি বিমান। সব মিলে ১২৫টি বিমান ছিলো ওই বহরে।

বিশাল এই বিমানের বহরটি এক সাথে পূর্ব দিকে উড়তে থাকে। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য পথিমধ্যে পাইলটরা খুব কমই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করেছেন।

বিমানবহরটি যখন লেবাননের উপকূলের কাছে পৌছায় ঠিক সে সময় আরব সাগরে থাকা মার্কিন সাবমেরিন ইরানের পারমাণবিক টার্গেটগুলোর ওপর টোমাহক মিসাইল ছুড়তে শুরু করে। মিসাইলগুলো ওমান উপসাগরের আকাশ দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত হয়ে ইরানে প্রবেশ করে। এর কতক্ষণ পর লেবানন, সিরিয়া ও ইরাকের আকাশ পাড়ি দিয়ে বোম্বারগুলো ইরানের আকাশে পৌছায় স্থানীয় সময় রাত দেড়টায়।

বি-২ বোম্বারগুলো যখন টার্গেটে বোমা ফেলতে থাকে, একই বহরে থাকা ফাইটারজেটগুলো তখন চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ইরানের দিকে থেকে পাল্টা ফায়ার মোকাবেলার প্রস্তুতি নেয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরসাইলের হামলায় আগেই ইরানের এয়ারডিফেন্স সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেদিন কোন পাল্টা ফায়ার হয়নি। যে কারণে মার্কিন বিমানগুলো নিরাপদেই ইরানের আকাশ ত্যাগ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top