খেলা ডেস্ক : এত আলোচনা, আলোর ঝলকানি বা ভুটানের মুখোমুখি হওয়া; সবকিছুই ছিল একটা ম্যাচকে ঘিরে। সেই কাঙ্ক্ষিত ম্যাচ মাঠে গড়াচ্ছে আজ। বেলা নামতেই মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর লড়াই। শুধুই একটা ম্যাচ? না কি তার চেয়েও বেশি কিছু? উচ্ছ্বাসে, আবেগে আর অনুভূতি; সব একাকার হয়ে আছে এই ম্যাচটিকে ঘিরে। জাতীয় স্টেডিয়াম প্রস্তুত ফুটবলের নবজাগরণের সাক্ষী হতে।
হামজা চৌধুরী, ফাহমিদুলদের অপেক্ষা ফুরিয়েছে আগের ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে। তবে এখনো মাঠে নামা হয়নি সামিত সোমের। আজ ফুরাতে চলছে সেই অপেক্ষা। লাল-সবুজের জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নামবেন তিনি।
প্রথম ম্যাচেই অবশ্য কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে সামিতকে। খেলতে হবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। হয়তো অতো বড় নয়, তবে বড় তো নিশ্চয়ই। এখন পর্যন্ত যাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের নেই কোনো জয়।
অবশ্য ‘সিঙ্গাপুর’ নামটা দেশের মানুষের কাছে যতটা পরিচিত, ফুটবলে তেমন নয়। এশিয়ার দেশ হলেও দেখা সাক্ষাৎ হয় কালেভদ্রে, নতুন প্রতিপক্ষ বললেও ভুল হবে না মোটেও। শেষ দেখা যে হয়েছিল এক দশক আগে!
বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেই ম্যাচে খেলা একজন এখনো আছেন সিঙ্গাপুর দলে। তিনি হারুন, দলটার অধিনায়ক। একই সাথে তিনি দেশটার ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতিও।
দেখা-সাক্ষাৎ কম হলেও বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে আস্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে সিঙ্গাপুর। ১৯৭৩ সালের ১৩ আগস্ট, তাদের হারিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় স্বাধীন বাংলাদেশ।
ফিফা স্বীকৃত ম্যাচে ৪ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ২ বার জিতেছে সিঙ্গাপুর, একটি জয় বাংলাদেশের। অন্য ম্যাচ ড্র হয়। ১৯৭৩ সালে প্রথম দেখায় ১-১ গোলে ড্র হয় লড়াই। বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন কাজী সালাহউদ্দিন।
তবে একই বছরের ২ ম্যাচের প্রীতি সিরিজে সিঙ্গাপুরকে তাদের মাটিতে ১-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। গোল করেন মরহুম নওশেরুজ্জামান। যদিও সিরিজের অন্য ম্যাচে ২-০ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ।
এরপর ৪২ বছর আর দেখা হয়নি দুই দলের। অবশেষে ২০১৫ সালে এক প্রীতি ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে আতিথ্য দেয় বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে প্রথমে গোল করে এগিয়ে গেলেও পরে ২ গোল হজম করে হেরে যায় স্বাগতিকরা।
এবার ঘরের মাঠে আবারো সিঙ্গাপুরকে পাচ্ছে বাংলাদেশ। যদিও র্যাঙ্কিং, শক্তিমত্তা বা পরিসংখ্যান; সব কিছুতেই সিঙ্গাপুর থেকে ঢের পিছিয়ে টাইগাররা। র্যাঙ্কিংয়ে তারা যেখানে ১৬১, সেখানে ১৮৩ নম্বরে বাংলাদেশ।
২২ ধাপ এগিয়ে থাকা দলটার বিপক্ষে ম্যাচ কঠিনই হওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ দলে সম্প্রতি যোগ হয়েছে হামজা, সামিত, ফাহমিদুল নামের এমন কিছু অস্ত্র, যাদের বদৌলতে সাহস হারাচ্ছে না টাইগাররা।
তবে চারবারের এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন সিঙ্গাপুরকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। যদিও সময়টা তেমন ভালো যাচ্ছে না তাদের। দলটি জয় বঞ্চিত শেষ ছয় ম্যাচে। এর মাঝে হারের তিক্ততা জুটেছে চারটিতেই।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে যে ম্যাচ নিয়ে তোলপাড় পুরো ক্রীড়াঙ্গন, সেই ম্যাচটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। এশিয়ান কাপের টিকিট অর্জনের বড় ধাপ এই ম্যাচ। চূড়ান্ত পর্বে খেলতে হলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে।
নিজেদের গ্রুপের আগের দুই ম্যাচ ড্র হওয়া তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, ভারত ও হংকংয়ের মধ্যে। সবকিছু মিলিয়ে রোমাঞ্চকর এক লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলভক্তরা।
যা শুধুই একটা ম্যাচ নয়, ৫২ বছর আগে যে দলের বিপক্ষে প্রথম জয় পেয়েছিল লাল-সবুজরা, দেশের ফুটবলের বাঁক বদলের ক্ষণে সেই সিঙ্গাপুরকে উড়িয়েই মিশনে করতে চায় শুভ সূচনা।




