৫ মাসেও মেলেনি আর্থিক সহযোগিতা, ক্যান্সার আক্রান্ত ববি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

 

ওয়াহিদ-উন-নবী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে ৩বার আবেদন করলেও তাতে কোনো রকম সাড়া দেননি ভিসি ড. শুচিতা শরমিন। এমন অভিযোগ তুলেছে ক্যান্সারে মারা যাওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের   ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের (৯ম ব্যাচ) শিক্ষার্থী জেবুন্নেসা হক জিমির সহপাঠীরা।

গত বৃহস্পতিবার (০১ মে) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের সময় ক্যান্সারের সাথে লড়াই শেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই শিক্ষার্থী। জিমির বাড়ি ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার গজারিয়া গ্রামে।

জিমির সহপাঠীরা জানান, ২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৮ই তারিখে ভিসি বরাবর জিমির চিকিৎসার আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন পত্র জমা দেওয়া হয়; কিন্তু তার দপ্তর চিঠিটা গ্রহণ করলেও তাতে সাড়া দেয়নি।

তারা আরো জানান, ভিসির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে পরবর্তীতে একই আবেদন ৩ বার সাবমিট করা হয় কিন্তু তাতেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেনি।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা শহিদুল ইসলাম শাহেদ ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুক পোস্টে  লিখেছেন, জিমি আপুর হায়াত ছিল না তাই আল্লাহর কাছে চলে গেছেন, তবে আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আজ কতটা অভিভাবকহীন আর অনিরাপদ!!
প্রায় পাঁচ পাঁচটি মাস একজন মানুষের আর্থিক সহায়তার আবেদনপত্র ভিসি দপ্তরে পড়েছিল কিন্তু একটি বারের জন্যও সেটা খুলে দেখার সময় পাননি তিনি!

এ বিষয়ে জিমির সহপাঠী রবিউল ইসলাম বলেন,  জিমির চিকিৎসার জন্য উপাচার্য বরাবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করা হয়েছিলো। ভিসির দফতর থেকে দেওয়া প্রতিটি তারিখে গিয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানালো, আবেদন পত্র হারিয়ে গেছে আবার আবেদন করতে। পরবর্তীতে  একই আবেদনপত্র ৩ বার সাবমিট করা হলেও তারা কোনো পজিটিভ রেসপন্স দেয়নি। অবশেষে ১৫ দিন আগেও পুনরায় অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করা হইছে। ৪ মাস ১৫ দিন হয়ে গেলেও ভিসির কাছ থেকে কোনো উত্তর আমরা পাইনি। আর আবেদনপত্রের উত্তর দিতে হবে না, জিমি মারা গেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, আমাদের ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জিমিকে যতটুকু পেরেছি সাহায্য করেছি। আরো কিছু সাহায্যের জন্য আমি আমার শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভিসি বরাবর আর্থিক সাহায্যের জন্য একটা আবেদন করেছিলাম; কিন্তু তার আর কোনো আপডেট আমরা পাইনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনকে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top