ভারতে ওয়াক্ফ বিল নিয়ে বিতর্ক, বিক্ষোভ

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ভারতীয় পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে পাস হয়েছে বিতর্কীত মুসলিম ওয়াক্ফ বিল। নিম্নকক্ষ লোকসভায় পাস হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিলটি উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়ও দীর্ঘ বিতর্ক শেষে সহজেই পাস করা হয়। আশঙ্কার বিষয় হলো, এই বিলে ওয়াক্ফ বোর্ডে ২ জন অমুসলিম সদস্য রাখার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া, আরেকটি শর্ত হলো, কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে ইসলাম ধর্ম পালনকারী ব্যক্তিরাই ওয়াক্ফ সম্পত্তি দান করতে পারবেন।

ওয়াক্ফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য রাখার বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ওয়াক্ফ বোর্ডে দুজন অমুসলিম সদস্যের প্রয়োজন কেন? রাম মন্দির ট্রাস্টে কি কোনো মুসলিম সদস্য আছেন? মুসলিম তো দূরের কথাআমার মতো কোনো দলিত হিন্দুকেও সেখানে রাখবেন না।’

প্রস্তাবিত আইন অনুসারে, ওয়াক্ফ হিসেবে চিহ্নিত সরকারি সম্পত্তি সরকারের মালিকানাধীন থাকবে না এবং স্থানীয় কালেক্টর এর মালিকানা নির্ধারণ করবেন। কালেক্টরের পদমর্যাদার ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা ওয়াক্ফ হিসেবে দাবি করা সরকারি সম্পত্তির তদন্ত করবেন।

বিরোধের ক্ষেত্রে একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে যে কোনো সম্পত্তি ওয়াক্ফের নাকি সরকারের। এটি বিদ্যমান ব্যবস্থাকে বদলে দেবে, যেখানে ওয়াক্ফ ট্রাইব্যুনাল এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিত। বিরোধী দল এবং মুসলিম সম্প্রদায় এটিকে ওয়াক্ফ সম্পত্তির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।

মুসলিমরা বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে যেসব সম্পত্তি দান করেন সেগুলোই ওয়াক্ফ সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত। স্বতন্ত্র সংগঠনের মাধ্যমে এই সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এখন সরকার এই আইনের মাধ্যমে এই কমিটিতে দুজন অমুসলিমকে রাখার নির্দেশ জারি করলো। যাতে সম্পত্তিগুলোর দখলের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বিতর্কীত এই ওয়াক্ফ বিলের প্রতিবাদে শুক্রবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা, চেন্নাই ও আহমেদাবাদসহ ভারতের বিভিন্ন শহরের সড়কগুলো। অসংখ্য মানুষ হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের হাতে নানা ধরনের প্ল্যাকার্ডও দেখা গেছে। তাতে লেখা ছিল, ‘আমরা ওয়াক্‌ফ সংশোধনী মানবো না’, ‘ওয়াক্‌ফ বিল প্রত্যাহার করুন’।

হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার জুমাার নামাজের পরপরই ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা এই বিক্ষোভে অংশ নেন। এদিন কলকাতায় প্রতিবাদের বহর ছিল অনেক বড়। গুজরাটের আহমেদাবাদেও পথে নামেন মুসলিমরা।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top