মুসা আল হাফিজ
একটু রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দৃষ্টি দিই; ইসলামী রাষ্ট্রবিজ্ঞানে। দর্শনের মতো রাষ্ট্রবিজ্ঞানও মানুষের স্বরূপ জানতে চায়। যদিও এই প্রক্রিয়া মেটাফিজিক্সের কাছে সমর্পিত নয়।
এক.
ইসলামী রাষ্ট্রতত্ত্বে রাষ্ট্রগঠনের মূলে আছে ফরদ (ব্যক্তি) । ব্যক্তির বিকাশ নির্ভরশীল মুজতামা‘র (সংঘবদ্ধতা) উপর। মুজতামা‘ নির্ভরশীল তায়াবুনের (পারস্পরিক সহায়তা) উপর।
তায়াবুন কীসের উপর নির্ভরশীল? সে নির্ভরশীল উলফতের ( সম্পীতি, দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতি) উপর। এই উলফত প্রকাশিত হয় পাস্পরিক সহবোধ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে।
এই সহযোগিতার পথ ধরে মানুষ তৈরী করে মাজমা‘ ; ঐক্যর পাঠাতন। প্রথম যে মাজমা মানুষের দ্বারা তৈরী হয়, তার নাম আয়িলায়ে মুজতামা‘ বা মিলিত পরিবার । এরপর মুজতামাউস সুগরা বা সমাজ, গ্রাম, গোষ্ঠী, শহর, নগর ও নাগরিক প্রতিষ্ঠান। এরপর তৈরী করে মুজতামাউল উসতা বা মধ্য আকারী ঐকপ্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে আছে গ্রাম, শহর ও নগর, নগর সমূহের যৌথতা এবং রাষ্ট্র। তারপর তৈরী হয় মুজতামাউল কুবরা বা জাতি, গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রসমুহের সমন্বিত বিশ্বরাষ্ট্র বা বড় সমাজ।
ইসলামী রাষ্ট্রদর্শন সমাজ, গোষ্ঠী ও নগরকেই সর্বশেষ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান মনে করে না। মানুষের যে ঐক্য সমাজ অবধি এসে থেমে গেছে, তাকে ইসলামী রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বলা হয় গাইরে কামিল মুজতামা‘ বা অপূর্ণ সম্মিলন।
যখন তা আরো বড় পরিসরে ক্রিয়াশীল হয়ে রাষ্ট্র গঠন করবে , তাকে বলে কামিল মুজতামা বা পূর্ণ সমবায়। কিন্তু তাও দুই রকমের। যে মুজতামা নিছক রাষ্ট্র গঠন করেই থেমে গেছে, সে হচ্ছে মুজতামাউল মাহদুদাহ বা সীমায় আবদ্ধ ঐক্য। আর যে সম্মিলন বহু রাষ্ট্র , গোষ্ঠী ও জনসমষ্ঠিকে একত্র করে বৈশ্বিক ঐক্য নিশ্চিত করবে, তাকে বলে মুজতামাউশ শামিলাহ বা ব্যাপকভিত্তিক ও সর্বধারী ঐক্য।
আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের পটভূমিতে অপূর্ণ মুজতামাউল মাহদুদাহ (সীমাবদ্ধ ঐক্য) নিয়েই রাষ্ট্র সমূহ বর্তমান। কিন্তু এই সীমাবদ্ধ ঐক্য কামিল(পূর্ণ) সম্মিলনের আওতায় আসবে, না তাকে নাকিস (অপূর্ণ) বলা হবে, সেটা তর্কের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
দুই.
এই যে সীমাবদ্ধ মুজতামা; রাষ্ট্র, তাও মানুষের জন্য বিরাট অনুগ্রহ এবং মানুষের গ্রেট অর্জন। এটা মানুষকে গড়তেই হয়। না গড়ে তার নিস্তার নেই।
কিন্তু তা গঠিত হয়ে গেলে তার চরিত্র কেমন হয়?
এ প্রশ্নের আগের প্রশ্ন হলো রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারিত হবে কী দিয়ে?
তা নির্ধারিত হবে প্রধানত দুই ধারার উপাদান দিয়ে।
এক. শাসক ও শাসনকর্মে যুক্ত শ্রেণীর চরিত্র।
দুই. জনগণের পারস্পরিক সহবোধ ও সহযোগিতার মাত্রা ও ধরণ।
যদি উভয় ধারা পরস্পরের সহযোগী হয়, কল্যাণমুখী হয, তাহলে রাষ্ট্রকে বলা যাবে মুজতামাউল ফাদিলাহ বা কল্যানী সমবায়, কল্যাণরাষ্ট্র। কিন্তু রাষ্ট্র কল্যাণী কি না, নির্ধারিত হবে কী দিয়ে? সেটা নির্ধারণের উপাদান অনেক। কেন্দ্রিয় উপাদান হলো আদর্শ কী হবে, তারপরের উপাদান হলো মানুষের আফজালিয়্যত তথা শ্রেষ্ঠত্ব, সম্মান ও মহিমা । জাহেলী ক্ষমতা আদর্শ ও মানবমর্যাদাকে সঙ্কোচিত করে, অবজ্ঞা করে, অস্বীকার করে।
এর পরে গুরুতর, এমন তিনটি উপাদানের কথা আজ বলি।
এক. আদল ও এহসান (ন্যায় ও সত্যনিষ্ঠা ) : ওমর রা. বলেছেন , রাষ্ট্রের ভিত্তি হলো আদালত। ফখরুদ্দীন রাযী রহ. ইসলামী রাষ্ট্রের সমস্ত বিষয়কে একটামাত্র শব্দ দিয়ে ব্যক্ত করা যায় কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে সেই শব্দ হলো আদল, ন্যায়প্রতিষ্ঠা।আদলের বিপরীত হচ্ছে জুলুম, বিচারহীনতা কিংবা সিলেকটিভ জাস্টিজ। এর ফলাফল হচ্ছে ক্ষমতাহীনের আর্তনাদ ও ক্ষমতাশীনের জবরদস্তি।
ন্যায়ের সাথে সত্যের সম্পর্ক। সত্যের সাথে ভারসাম্যের সম্পর্ক।সত্যহীনতা ছড়িয়ে পড়ে নিষ্ঠাহীনতার কারণে। মিথ্যার উপর বা মিথ্যার মিশ্রণে পরিচালিত শাসন ভারসাম্যকে বিনাশ করে। সমাজের সকল স্থরে যখন প্রত্যেকের আপন আপন ক্ষেত্রে ভারসাম্য নিশ্চিত হবে, তখন বলা যাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এহসান। এহসানের বিপরীত হচ্ছে বৈষম্য, বৈষম্যের ফলাফল হচ্ছে নৈরাজ্য।
দুই. আমন ও রিয়ায়াহ (নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ)
আমন বা নিরাপত্তা প্রথমত রাষ্ট্রের জন্য জরুরী , নাগরিক সত্তার জন্যও জরুরী। নিরাপত্তা রাষ্ট্রে বনবাসকারী প্রতিটি প্রাণের অধিকার। মানুষ, গাছ-পালা, পশু-পাখি, সবার। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা রাষ্ট্রকে দিতে হবে এবং তা নফস (জীবন), দ্বীন (ধর্ম-বিশ্বাস) মাল (সম্পদ) আকল (মেধা) নসল (সন্তান-সন্ততি) ইত্যাদির। রাষ্ট্রের নীতি ও ব্যবস্থাপনা হবে জনকল্যাণে নিবেদিত। এর অনুপস্থিতি নাগরিকদের এই প্রতিষ্ঠানকে একটি শ্রেণী বা কতিপয়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে। যা রাষ্ট্রকে কল্যাণী বানাবে না, বিপরীত দিতে হাকাবে।
তিন. তাতাউউর (উন্নয়ন)
ইসলামী রাষ্ট্রতত্ত্বে উন্নয়ন হবে দুই খাতে এবং সমান মাত্রায়। এক খাত জাগতিক, আরেক খাত আধ্যাত্মিক। কেবল চলাচল, খাবার-দাবার, যানবাহন, পেশা, বেঁচে থাকার নিরাপত্তা , অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েই মানুষের জীবন চলে না। যদি তার নৈতিক-আধ্যাত্মিক উন্নয়ন না হয়, তাহলে মানুষ হিসেবে বিপদের মধ্যে সে আছে এবং নিজের সত্তা থেকে সে বিচ্ছিন্ন হতে থাকবে, বঞ্চিত হতে থাকবে।
ফলে পার্থিব ও অপার্থিব উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে হবে সমান মাত্রায়। উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায়ও থাকতে হবে সমন্বয়। উন্নয়নের সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠান সমূহেও থাকতে হবে সমন্বয়। নৈতিক, চারিত্রিক, আধ্যাত্মিক উন্নয়নের দাবি হলো প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে থাকবে প্রবল ও যথার্থ জবাবদিহিতা। এর অনুপস্থিতি মানেই রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠান সমূহে স্বেচ্ছাচার , দুর্নীতি ও লুটের মচ্ছব।আর জনস্থরে সাংস্কৃতিক ও নৈতিক অবক্ষয়।
তিন.
সরকার যদি মুজতামাউল ফাদিলাহ এর চরিত্র ধ্বংস করে , তাহলে সে কী হতে পারে? তাহলে সে হবে মুজতামাউত তাখাল্লুফিয়্যাহ বা অধ:পতনমুখী সমবায় -সরকার। আল ফারাবির মতে, সে হবে হুকুমাতুল জাহিলিয়্যাহ ( মূর্খতার ক্ষমতাব্যবস্থা।)
তার হাতে থাকবে অনেক সুবিধা । কিন্তু দায়বদ্ধতা থাকবে না। সে করবে অনেক কাজ। কিন্তু জবাবদিহি থাকবে না। সে মনোযোগী হবে মুখ্যত দৃশ্যমান উন্নয়নে। কিন্তু উন্নয়নের শস্যের চেয়ে বেশি জন্ম নেবে দুর্নীতির আগাছা। সে ক্ষমতাকে মনে করবে কুক্ষিগত অধিকার। তার ক্ষমতার গোপন চাবিকাটি হবে শক্তি; শক্তির নিয়ন্ত্রণ নয়, প্রদর্শন, প্রয়োগ। সে ভয় ধরিয়ে দিয়ে জয় করতে চাইবে।
তার ভয় দেখানো কাজ করবে না, তা নয়। তা কাজ করবে। অনেক সময় ধরে কাজ করবে। এই সুযোগে সে হবে আরো চরিত্রহীন, তার চারপাশে থাকবে সুবিধাভোগী শ্রেণীর ভিড়। তারা ক্রমেই তৈরী করবে বহুমুখী সুবিধার চক্র। চারদিকে স্তাবকতা, চারদিকে জয় জয়কার, চারদিকে একচ্ছত্রতা। বিপরীত চিত্রগুলোকে অদৃশ্য করা হবে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিক্রিয়া সমূহকে সে সবলে প্রত্যাখ্যান করবে।ভাববে, জয়-ই তার নিয়তি। ভাববে সমাজের প্রতিক্রিয়া দমনের সব কৌশল তার জানা।
এই আত্মবিশ্বাস যখন আত্মবিকারের জায়গায় পৌছে যাবে, তখন হুমকি হবে তার ভাষা, ধমক ও দম্ভ দিয়েই সে কথা বলবে । সে ভাববে সবকিছু ঠিক আছে। সব কিছুই তার পক্ষে। বিপরীতে যা আছে, তা নিছক পোকামাকড়।
তখনই ঘটবে বড় এক ঘটনা। ক্ষমতাচক্রের মোলাকাত ঘটবে আসল শত্রুর সাথে। তার আসল শত্রু হলো জনগণ।
চার.
কিন্তু জনগণ এই বিপুল অনড় ক্ষমতাবলয়ের সাথে কী দিয়ে লড়বে? তাদের কী আছে? মাওয়ার্দী দেখান, জনগণ এ পরিস্থিতিতে সংগঠিত করবে নিজেদের আসল সামর্থ্যকে । সেই সামর্থ্য হলো মুজতামা (সংঘবদ্ধতা) ও তায়াবুন (পারস্পরিক সহযোগিতা) ।
ইবনে খালদুনও বলেছেন একই সুরে। তার মতে জনগণ তখন নিজেদের আসাবাহ (জনবন্ধন) কে শক্তিশালী করবে। তা করবে মাওয়াদ্দাহ (ভালোবাসা, সহবোধ, সম্প্রীতি) এর ভিত্তিতে, তাহাদ্দি (চ্যালেঞ্জ) সমুহের বিরুদ্ধে। ইবনে খালদুনের বিচারে চ্যালেঞ্জ সমূহ তখন দুই রকম এবং কোনো রকমই উপেক্ষণীয় নয। এক. দাখেলী (আভ্যন্তরীণ, দেশীয়, স্থানীয়)। দুই. খারেজি ( বহিরাগত )।
এর বিপরীতে জনতার আসাবিয়্যত এক দিনে সংগঠিত হবে না। তা সংগঠিত হবার শর্ত আছে। প্রথমত, চ্যালেঞ্জগুলো হতে হবে সর্বজনীন। মানে প্রত্যেকেই অনুভব করবে , এই চ্যালেঞ্জ ব্যক্তিগত আমি ও বৃহত্তর আমিকে বিপন্ন করবে।
দ্বিতীয়ত, চ্যালেঞ্জগুলোর ধারক ও বাহক শক্তি হবে সুনির্দৃষ্ট। কিন্তু তারা সুনির্দৃষ্ট হলেও তাদের কর্মকৌশল যদি অচিহ্নিত থেকে যায়, তাহলেও জনতার শক্তি প্রতারিত হবে। অতএব তৃতীয়ত, তাদের কর্মকৌশল, প্রকারণ, শক্তির ধাপ সমূহ এবং তার জীবনীসামর্থ্য থাকবে হবে পরিষ্কার।
চতুর্থত, জনতার লড়াই হবে অধিকতরো অন্তর্ভূক্তিমূলক, দীর্ঘজীবিতার প্রবল সামর্থ্য, সামাজিক শক্তির ইতিবাচক সংযোগ।
তাকে অবশ্যই ক্ষমতাচক্রের সকল কৌশলের বিপরীতে গণকৌশলকে অগ্রগামী রাখতে হবে। সেটা নিশ্চিত হবে দুই ধরণের আকল প্রয়োগে। এক. আকলে ফে‘লী ( ব্যবহারিক বুদ্ধিবৃত্তি) । যা বলে দেয়, এখন কী করা উচিত। দুই. আকলে নাজারি (তাত্তিক বুদ্ধিবৃত্তি) । যা প্রতিটি পরিবর্তনশীল প্রেক্ষিতে কাজের অপূর্ণতা ও খুঁতকে মোকাবেলা করবে। কর্মধারার বিবর্তনিক মোমেন্ট সমূহকে উচিত নির্দেশনা দেবে, বৈধতার বয়ান ও কাজের ন্যায্যতার মধ্য দিয়ে পূর্ণতা অবধি নিয়ে যাবে। এই ধারার সক্রিয়তা অনেক বেশি।
কায়েমী ক্ষমতা নিজেকে দাহিয়্যা (ভিক্টিম) হিসেবে দাবি করবে এবং সর্বান্তকরণে চাইবে জনতার উপর যেন ভাযেলেন্সের ইলজাম (অভিযোগ) আরোপ করা যায় । যাতে সবার উপর সব ধরণের জুলুমকে ন্যায্যতা দেওয়ার পথ তৈরী হয়।
সামাজিক সংগ্রাম সাধারণত শুরু হয় এমন সব তাহাদ্দির (চ্যালেঞ্জ) কারণে , যা মুদরাকাত ( অনুভবযোগ্য, খোলাখোলি লক্ষ্যযোগ্য)। কিন্তু এই সংগ্রামের পরিণতি নিশ্চিত হয় এমন সব তাহাদ্দির মোকাবেলা করতে পারা না পারার ফলে, যেগুলো তাজরিদাত (অলক্ষ্যণীয়) । এর নমুনা হতে পারে বিভিন্ন দেশে চলমান গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড, বহুস্থরী পলিসি এবং আঞ্চলিক ও বৃহত্তর শক্তিসমূহের কৌশলগত গোপন স্বার্থবিনিময়।
এই ধরণের আড়ালে থাকা উপাদান সমূহ আজকের দুনিয়ার অধিকাংশ গণপ্রতিরোধের কুরবানীকে ফলাফল অবধি যেতে দেয় না। এসবের সক্ষম মোকাবেলা করেই কেবল জনতার মুজতামাকে (সংঘবদ্ধতা) লক্ষ্যপূরণ করতে হবে।
পাঁচ
ব্যাপারটা শেষ অবধি জনতার সংগ্রামের ঐক্য, কৌশল, নৈতিকতা, ন্যায্যতার সামাজিক স্বীকৃতি এবং গতিশীল ধারাবাহিকতার উপর নির্ভর করে । এটা যদি যথাযথ থাকে, তাহলে সমাজের জীবন ও মোকাবেলা একই বিন্দুতে মিলিত হয়। সে মোকাবেলার মধ্যেই দেখে জীবনের মূল্য ও সম্মান, ইনসাফ ও নিরাপত্তা এবং মুক্তি ও কল্যাণের সম্ভাবনা। একে যদি গণআকাঙ্খার সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তাহলে জনতার লড়াইয়ের সামনে থাকে বিজয়।
এই যে দৃষ্টিভঙ্গির কথা বললাম, যা ইসলামী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত। কিন্তু এ তত্ত্ব আজকের দুনিয়ায় অধিকতরো জীবন্ত, বাস্তব। বিগত কয়েক দশকে বিশ্বের দেশে দেশে যেসব গণআন্দোলন-গণবিক্ষোভ হয়েছে, সেগুলো প্রমাণ করেছে কোন জনগোষ্ঠীর মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ যদি প্রত্যক্ষ, যথাযথ ও নিয়মিত প্রতিবাদে অংশ নেয়, তাহলে সেখানে জনতারই বিজয় হয়। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এরিকা চেনোওয়েথ এর গবেষণা এই দাবি উত্থাপন করেছে।
(আমি মনে করি, সব জায়গায় এই সংখ্যা সব সময় কাজ নাও করতে পারে। কখনো কখনো পরিস্থিতি হয়তো সংখ্যাটিকে আরো বড় পরিসরে দেখতে চাইবে।)
১৯৮০র দশকে কমিউনিষ্ট শাসনামলের পোল্যান্ডে হয়েছিল সলিডারিটি আন্দোলন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন, নিকারাগুয়ার সোমোজা পরিবারের পতন, চিলির স্বৈরশাসক অগাস্তো পিনোশের পতন, সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচের ক্ষমতাচ্যুতি, তিউনিশিয়ায় স্বৈরশাসক জয়নুল -আবেদিন বিন আলীর পতনসহ নিকটকালের অনেকগুলো গণজাগরণের উপর তার গবেষণা থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জুলুমের বিপরীতে আদলের (ন্যায় প্রতিষ্ঠার ) যে লড়াই, তাতে দিনের পর দিন ধরে ইন্নালিল্লাহ বলার মতো ঘটনা ঘটতে থাকে, একের পর এক। কিন্তু তা ঘটে সর্বশেষে আলহামদুলিল্লাহ বলার উপসংহারকে নিশ্চিত করার জন্যই।




