উত্তম গোলদার : উপজেলা সদর থেকে তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরে পায়রা নদী তীরবর্তী দত্তের চর এত সুন্দর তা হয় তো অনেকেই জানে না। তাই এ সংগঠনের সদস্যরা দূরে কোথাও না গিয়ে বাড়ির কাছেই সুন্দর ও মনোরম পরিবেশেটাই পছন্দ করেছেন। যেখানে প্রকৃতি, পাখির কলতান। এর প্রাকৃতিক পরিবেশ সবসময় প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের আকর্ষণ করে। ভ্রমণপিপাসুরা প্রতিদিনই এখানে ঘুরতে আসেন। যে কেউ সহজেই নদীর তীরে মোটরসাইকেল কিংবা বড় গাড়ি নিয়েও আসতে পারেন।
আমাদের এ কমিটির পরিচিত সভা ও বনভোজন এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাস্তবিক জ্ঞান অর্জন, এলাকা সম্পর্কে জানা ও চিত্তবিনোদন। পায়রা নদীর তীরবর্তী এখানকার অধিকাংশ মানুষ জেলে। মাছ শিকারই তাদের প্রধান পেশা। বনভোজন স্পষ্ট থেকে খানিকটা পূর্ব দিকে নদীর তীরে দেখা গেছে অনেকগুলো মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার। এই চর বর্ষা মৌসুমে পানিতে প্লাবিত হয়।
মির্জাগঞ্জ ফাউন্ডেশনের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা ও বনভোজন অনুষ্ঠান করার জন্য ফাউন্ডেশনের সদস্যরা এই পায়রা নদীর দত্তের চরকে বেছে নেয়। আমিও কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। এ ফাউন্ডেশনের প্রায় একশত সদস্যের একটি টিম মঙ্গলবার (১৮ ফ্রব্রুয়ারী) সকাল আটটায় উপজেলা সদরস্থ সুবিদখালী কলেজ রোড এলাকা থেকে রওনা হয়ে বনভোজন স্থলে পৌঁছায়। যে যার মতো করে দশ থেকে পনেরো মিনিটে মধ্যে পৌঁছে শুরু হয় নাস্তা ও টিশার্ট বিতরণ।
সকাল এগারোটায় শুরু হয় আলোচনা ও পরিচিত পর্ব। এরপরে একে একে ছোট শিশুদের দৌড় প্রতিযোগীতা,মহিলাদের বল পাসিং খেলা, চোখ বেঁধে কপালে টিপ পড়ানা, হাড়ি ভাংগা, আর সবচেয়ে মজার ইভেন্ট ছিল পায়রা নদীতে এই স্রোতের মধ্যেও হাঁস ধরা। তবে কোন বিপদ ছাড়াই অনেক সময় ব্যয় করে হাঁস ধরতে সক্ষম হয় সদস্যরা। যারা পায়রা নদীতে হাঁস ধরতে সাহসিকতা দেখিয়েছেন। তাদের এ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। এরপরে দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হয় খানাপিনা। সূর্য যখন আস্তে আস্তে পশ্চিম দিকে হেলে পড়ছে তখন শুরু হয় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ পর্ব। তবে বাদ যায়নি কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মহামূল্যবান সম্মাননা স্মারক।
‘আমরাই গড়বো আগামীর মির্জাগঞ্জ’ এ প্রতিপাদ্যেকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ফাউন্ডেশনের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা ও বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত কমিটির পরিচিতি সভায় অতিরিক্ত করেন সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মিয়াদুল ইসলাম মাহিন(হাদি)। সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ অয়ালী উল্লাহর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন, মোঃ কামরুজ্জামান বাঁধন, উত্তম গোলদার, ডাঃ জহিরুল ইসলাম, এম.ইউ.খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফিরোজা আলম জুয়েল ও সহ- সম্পাদক মোঃ রাব্বি মল্লিকসহ অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মির্জাগঞ্জ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সংগঠনটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ২০১৯ সালের প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ সংগঠনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১৪০০ জন রোগীকে বিনামূল্যে রক্ত দিয়ে সেবা দেওয়া হয়েছে। কোভিড-১৯ এর সময় বিনামূল্যে সেবা, বিভিন্ন সময়ে দুঃস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র, পঙ্গু রোগীদের হুইল চেয়ার বিতরণ, ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষদের সচেতন করা সহ নানা সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে এ সংগঠনের মাধ্যমে।
ফাউন্ডেশনের সাবেক সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান বাঁধন তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই ফাউন্ডেশনটি নিঃস্বার্থভাবে মানবতার সেবায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আমরা এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিকমূলক কাজ করে যাচ্ছি। সমাজে পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্রদের সচেতন করতে এবং আর্থসামাজিক ভাবে সচ্ছল করতে সংগঠন কাজ শুরু করা হয়। সবার সার্বিক সহযোগিতায় সমাজের হতদরিদ্র মানুষকে প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের কর্মক্ষেত্র তৈরি করাই সংগঠনের কাজ। নতুন কমিটির মাধ্যমে মির্জাগঞ্জ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুধু মির্জাগঞ্জই নয়, এটা জেলা থেকে বিভাগীয় শহর এমনকি কেন্দ্রীয় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস। তাই সকল সদস্যকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং এই সংগঠনটি সমাজের কাছে পরিচিতি লাভ করতে পারে।




