মোহাম্মদ এমদাদ হোসাইন
আজ পহেলা অগ্রহায়ণ, যা বাংলায় নবান্ন উৎসব হিসেবে পরিচিত। নবান্ন মানে ‘নতুন অন্ন,’ অর্থাৎ নতুন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে তৈরি করা খাবার। এটি একটি প্রাচীন বাংলার কৃষিভিত্তিক উৎসব, যা শস্য কাটার পর প্রথম ফসল ঘরে তোলার আনন্দ উদযাপন করার জন্য পালিত হয়।
এই দিনে ধান কাটার পর নতুন চাল দিয়ে পিঠা-পায়েসসহ নানা ধরনের খাবার তৈরি করা হয় এবং গ্রামীণ এলাকায় বড় আকারের উৎসবের আয়োজন করা হয়। এটি ফসলের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ধন্যবাদ জানানোর সময়। পহেলা অগ্রহায়ণ বাংলা পঞ্জিকার অষ্টম মাসের প্রথম দিন, যা গ্রামবাংলার সংস্কৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
নবান্ন মূলত একটি গ্রামীণ অনুষ্ঠান, যেখানে গ্রামীণ এলাকায় উৎসবের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে গান, নাচ, ও লোকজ মেলার আয়োজনও হয়ে থাকে। এটি গ্রামের মানুষের ঐক্য ও সম্প্রীতিকে আরো দৃঢ় করে। এই সময়ে নতুন ধানের ম’ ম গন্ধে ভরে উঠে বাড়ি। কৃষক কৃষাণীর ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তারা সোনার ধান ঘরে নিতে শুরু করে। ধান কাটা, মাড়াই করা, রোদে শুকানো তাদের প্রতিদিনের কাজ।
কিন্তু আধুনিক নগর সভ্যতার প্রভাবে আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে এই নবান্ন উৎসব। শুধু নবান্ন উৎসবই নয় এরকম আরো অসংখ্য গ্রামীণ উৎসব হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রাম হবে শহর এই স্লোগান গ্রাস করতে শুরু করেছে আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি।




