গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের গৌরনদীতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই চোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উপজেলার উত্তর চাঁদশী গ্রামের বাসিন্ধা কলেজ শিক্ষক আকন মোঃ কামরুজ্জামান এর বাসভবনে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ বুধবার দুপুরে অনুপ দাস (৪৫) ও রিপন গাঁজী (২৪) নামের সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া দুই দুজন স্থানীয় যুবলীগের সক্রিয় সদস্য। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তারা এলাকায় চুরি, ছিনচাই, চাঁদাবাজী, জবরদখলসহ নানা অপকর্ম করে আসছিল। শেখ হাসিনার শাসন আমলে তারা ছিল চরম বেপরোয়া। ক্ষমতার দাপটের কারনে পুলিশ তাদের টিকিটিও ছুতে পারেনি।
চুরির শিকার পরিবারের গৃহকর্তা পাশ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলার সরকারি শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রী কলেজের ইংরেজীর প্রভাষক আকন মোঃ কামরুজ্জামান জানান, গত ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে সংঘবদ্ধ একটি চোরের দল তার পাঁকা বাসভবনের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে নগদ ৭ লক্ষাধিক টাকা, ১৮ ভরি স্বর্নালঙ্কার, ১টি এয়ারগান, ২টি দামি মোবাইল ফোনসহ ৩০লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ সময় স্ত্রীসহ তিনি গভীর ঘুমে ছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে কলেজ শিক্ষকের স্ত্রী তাদের শয়ন কক্ষে চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে তাকে ডেকে তোলেন। চোরের দল তখন দৌড়ে পালিয়ে যায়। চোরেরা সবাই হাফপ্যান্ট পড়ে, খালি গায়ে তার বাসভবনে ঢুকেছিল।
ঘটনার পরদিন ১২জুলাই শুক্রবার মোঃ কামরুজ্জামান বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা চোরদেরকে আসামী করে গৌরনদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
চোর সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইউনুস মিয়া জানান, থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর দুধর্ষ ওই চুরির ঘটনায় জড়িত চোরদের সনাক্ত করতে ও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশ মাঠে নামে। পুলিশি অনুসন্ধানে ওই দুই জনসহ তাদের বেশ কয়েকজন সহযোগীকে শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুধবার দুপুরে ওই দুই জনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির সাথে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের সহযোগীদের নামও বলেছে। চুরি হওয়া মালামাল কোথায় আছে তাও বলেছে। সেগুলো উদ্ধার ও চোর চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের আগে আমরা তাদের নামগুলো প্রকাশ করতে পারছি না।




