আবু আবদুল্লাহ
লেবাননে পরপর দুদিন পেজার এবং ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের পরই আবার হামলা চালিয়ে শীর্ষস্থানীয় এক হিজবুল্লাহ কমান্ডারকে হত্যা করেছে ইসরাইল। যা অঞ্চলটির পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। যে কোন সময় হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরাইলকে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়ে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, তিনি চান তাদের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনারা প্রবেশ করুক। এতে করে ইসরায়েলিদের ঘায়েল করতে তাদের সুবিধা হবে।
কয়েকদিন আগে দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নর্দান কমান্ডার মেজর জেনারেল ওরি গোর্ডিন হুমকি দেন, লেবানন সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা ইসরায়েলিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ফেরাবেন তারা। এজন্য লেবাননের ভেতর প্রবেশ করে একটি নিরাপদ জোন তৈরি করা হবে। যেন হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা সীমান্ত থেকে কোনো হামলা না চালাতে পারে। মূলত এই সেনা কর্মকর্তার হুমকিকে উপহাস করেছেন হিজবুল্লাহ প্রধান। তিনি তাকে ‘বোকা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, আমি আশা করি ইসরায়েলি সেনারা লেবাননে প্রবেশ করবে। কারণ এটি আমাদের জন্য ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ সৃষ্টি করবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও হুমকি দিয়েছেন তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে উত্তরাঞ্চলে ৬০ হাজার মানুষকে ফেরাবেন। যাদের গত ৮ অক্টোবর সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল ইসরায়েল।
নাসরুল্লাহ নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “নেতানিয়াহু উত্তরাঞ্চলে আপনি মানুষকে ফেরাতে পারবেন না। কোনো সামরিক অভিযান, হত্যা, গুপ্তহত্যা এবং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের ফেরাতে পারবে না। তাদের ফেরানোর একমাত্র উপায় গাজায় আগ্রাসন বন্ধ করা।”
ইসরাইলকে উদ্দেশ্য করে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, লেবাননে পেজার ও ওয়াকিটকি দিয়ে দখলদার ইসরায়েল যে হামলা চালিয়েছে সেটির ‘ভয়ঙ্কর’ জবাব দেওয়া হবে।
হিজবুল্লাহ প্রধানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ইরানের প্রতিরোধ বাহিনীর কাছ থেকে খুব শিগগিরই কঠোর জবাব পাবে ইসরায়েল। পেজার ওয়াকিটকিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে লেবানের নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপর হামলা চালিয়ে ইসরায়েল নতুন কিছু পাবে না।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের একটি যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হিজবুল্লাহর এসব হামলার জবাবে যদি ইরানের প্রক্সি সংগঠনগুলো একযোগে লড়াইয়ে নামে, সেটি অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এ প্রসঙ্গে লেবানন বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের বিশেষ সমন্বয়ক জেনি হেনিস প্লাসচার্ট শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, লেবাননের জনবহুল এলাকায় ইসরাইলের বিমান হামলা আরেকটি যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করছে।
বৃহস্পতিবার ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার পর তিনি একথা বলেন। এই কর্মকর্তা আরো বলেন, আমরা প্রকৃত বিপজ্জনক সহিংসতা ও এর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করছি। এগুলো অবশ্যই থামাতে হবে এবং সেটি কূটনৈতিক উপায়েই সম্ভব।




