আদর-সোহাগেও থাকুক সমতা

শায়খ আবু তাসনিম

পরিবারে সন্তান যদি একাধিক থাকে, তাহলে পিতা-মাতাকে সতর্ক থাকতে হয়। সকল সন্তানের মন জুগিয়ে চলতে হয়। আদর-সোহগে সমতা বিধান করতে হয়। আল্লাহর রাসূল সা. হাদিসে এর প্রতি জোর দিয়েছেন। কুরআনের আয়াত থেকেও এর গুরুত্ব প্রমাণিত হয়। সেজন্য এই বিষয়ে খুবই থাকতে হবে।

যদি আদর-সোহাগে সমতা বজায় না রাখা হয়, তাহলে উভয় সন্তানের জন্যই তা ক্ষতিকর বিবেচিত হবে। কারণ, যখন একজন দেখবে, তার অপর ভাই আদর সোহাগে প্রাধান্য পাচ্ছে, তখন সে মনে খুব কষ্ট পাবে। অপর ভাইয়ের প্রতি তখন তার ঈর্ষা এবং একপর্যায়ে হিংসাও তৈরি হবে। এতে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তখন এমন হবে যে বঞ্চিত সন্তান পিতামাতার আকর্ষণ তার ভাই থেকে ফিরিয়ে নিজের দিকে টেনে আনতে প্রয়াস পাবে। সেজন্য জঘন্য কোনো কাজ করতেও দ্বিধা করবে না।

এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হজরত ইউসুফ আ. এর ভাইয়েরা। ইয়াকুব আ. তার সকল সন্তানকে সমান পর্যায়ের আদর-সোহাগ দিতেন। কিন্তু তিনি যখন ইশারা পেয়েছেন যে তার সন্তান ইউসুফ পরে নবী হবে, সেজন্য তার নিরাপত্তার প্রতি বিশেষ রাখতেন। এতটুকুই অন্য সন্তানদের হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়ালো। অবশেষে এই হিংসা চরিতার্থ করার জন্য তারা ইউসুফ আ. কে হত্যার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত গ্রহণ করেছে। পরে আল্লাহ তায়ালা নিজ কুদরতে ইউসুফ আ.কে রক্ষা করেন।

তবে হাঁ, বিভিন্ন কারণে কোনো সন্তানের প্রতি পিতামাতার দুর্বলতা থাকতেই পারে। সেটি দোষের কিছু নয়। কিন্তু ওই দুর্বলতা সবার সামনে প্রকাশ করা যাবে না। যথাসম্ভব অন্যদের সামনে চেপে রাখবে। অন্যদের অধিকার ও প্রাপ্তিতেও কম করা যাবে না। তবে এই বিপত্তি থেকে সহজে কেটে ওঠা যাবে।

একজন আদর্শ পিতামাতার দায়িত্ব হলো, সকল সন্তানকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা। তাদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বন্ধনকে সুদৃঢ় করা। তাদের মাঝে এমন বন্ধন গড়ে তোলা, যেন পরস্পরের মধ্যে একজন অন্যজনকে প্রাধান্য দেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। সর্বক্ষেত্রে যেন তাদের মাঝে এই মানসিকতা বিরাজ করে। এমনকি পিতামাতার আদর-মোহাব্বতের ক্ষেত্রেও যেন একজন অন্যজনকে ছাড় দিতে পারে।

এতে সন্তানদের পারস্পরিক বন্ধন ঠিক থাকবে। বাবা-মায়ের সাথে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সচেতনতা দান করেন। সুখময় পরিবারে আবৃত করেন। আমিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top