চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা দেশকে আবার স্বাধীন করেছে: প্রধানমন্ত্রী

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা এই দেশকে আবার স্বাধীন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, এই বাংলাদেশ একসময় পরাধীন ছিল। আমাদের পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে। এরপরও বিভিন্ন সমস্যা হয়েছে দেশে। আমাদের দেশের মানুষরা—বিশেষ করে তোমাদের মনে আছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই দেশের ছাত্র-জনতা এই দেশের মানুষকে আবার স্বাধীন করেছে। আবার আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছি।

 

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরুর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, সাড়ে চার বছর আগে আমিনুল (বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) লন্ডনে গেলে তার সঙ্গে রেস্টুরেন্টে বসে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বিষয়ে প্রথম আলাপ হয়। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নিই, ক্ষমতায় এলে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করব।

 

সরকার তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে ছোট্ট বন্ধুদের পাশে আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, তোমরা যারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, খেলোয়াড়, গায়ক, মিউজিশিয়ান—যে যা হতে চাও, সরকার তোমাদের সহযোগিতা করবে। যে গান শিখতে চায়, সে গান শিখবে, যে মিউজিশিয়ান হতে চায়, সে মিউজিশিয়ান হবে—সেই ব্যবস্থা আমরা করব।

 

আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে, তা সম্পূর্ণরূপে শিশুদের ওপর নির্ভর করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা যত ভালোভাবে গড়ে ওঠবে, বাংলাদেশ তত শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। আমাদের সময় প্রায় শেষ, এখন বাংলাদেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব, তোমাদেরকে এগিয়ে নিতে যেতে হবে।

 

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা প্রত্যেকে বাংলাদেশের এম্বাসেডর হতে হবে, পারবে?

 

এই সময়ে পুরো গ্যালারিতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা উচ্চকণ্ঠে বলে, হ্যাঁ।

 

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইয়েস, সবাই পারবে ইনশাআল্লাহ।

 

শিশুরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, তোমাদেরকে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্য থেকে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে, ডাক্তার তৈরি হবে, আইনজীবী, ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট তৈরি হবে। তোমাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব তৈরি হবে। তোমরা এ দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

 

পড়াশোনায় সবাইকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পড়ালেখা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে মাফ দেওয়া যাবে না। কিন্তু পাশাপাশি প্রত্যেককে খেলতে হবে। নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে।

 

লক্ষ্য স্থির রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলার ক্ষেত্রে হোক, পড়ালেখার ক্ষেত্রে হোক—আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী তোমাদের পাশে আছি। সরকার, রাষ্ট্র তোমাদের পাশে আছে।

 

 

 

বিকেল সাড়ে তিনটায় অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চে বসে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, মার্শালাটসহ আট ধরনের প্রদর্শনী উপভোগ করেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top