ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি: তারেক রহমান

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আজকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি আমরা। যারা সংস্কারের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তারা নারীর স্বাধীনতা বা উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না। চিকিৎসা সহজলভ্য করা বা ওষুধ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার বিষয়েও তারা কথা বলে না। প্রশাসন কীভাবে ঠিক হবে, আইনশৃঙ্খলা কীভাবে উন্নত হবে—সেসব নিয়েও তারা কিছু বলে না।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিএনপির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম বগুড়া সফর এবং প্রথম জনসভা।

জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়নে বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল সংসদ ও বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, আজ এই হাজারো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে, এই মিডিয়ার সামনে পরিষ্কারভাবে আমি আবারও বলে দিতে চাই—সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যে জুলাই সনদে সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি অক্ষর আমরা ইনশাআল্লাহ এক এক করে বাস্তবায়ন করব।

তিনি বলেন, কিন্তু বারবার পরিষ্কারভাবে এই কথা বলে দেওয়ার পরেও আমরা দেখলাম কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু কথাবার্তা বলা শুরু করেছে।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত কমিশনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংবিধান, বিচার, প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও নারীবিষয়কসহ মোট ১১টি কমিশন করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কিছু রাজনৈতিক দল কার্যকর আলোচনা না করে শুধু সংবিধানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি করছে।

 

ময়মনসিংহের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি ব্যক্তিগত ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। একটি পারিবারিক ঘটনাকে কীভাবে রাজনৈতিক ইস্যু বানানো হয়েছে, সেটি সবাই দেখেছে।

এর আগে সকালে ঢাকার গুলশান থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করে বগুড়ায় পৌঁছান তারেক রহমান। শহরের সাতমাথায় পৌঁছালে নেতাকর্মীরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান। তিনি হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন। পুরো শহরজুড়ে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

 

দিনের শুরুতে তিনি বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে নবনির্মিত অ্যাডভোকেটস বার সমিতি ভবনের উদ্বোধন করেন। একই অনুষ্ঠানে সাতটি জেলায় ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রম চালু করা হয়।

 

সেখানে তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি। ন্যায়বিচার কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি নাগরিকের অধিকার।

 

পরে তারেক রহমান বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করেন। ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই ঘোষণা কার্যকর হয়। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন হয়েছে এবং এখন বগুড়া একটি পূর্ণাঙ্গ নগর ব্যবস্থাপনার আওতায় এসেছে। এ সময় শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

 

দুপুরে তিনি গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে তার পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়ি’ যান। প্রায় দুই দশক পর সেখানে ফিরে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

 

সেখানে তিনি দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন এবং খাল খনন প্রকল্পের কাজের সূচনা করেন। পাশাপাশি একটি স্থানীয় হাসপাতালের উদ্বোধনও করেন।

 

দিনের শেষ ভাগে আবার জনসভায় যোগ দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। বিপুল জনসমাগমে দীর্ঘ বক্তব্যে রাজনৈতিক অবস্থান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পরে বগুড়া প্রেস ক্লাবের নবনির্মিত ভবন ও একটি কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এই সফরে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top