ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া কি জায়েজ

ডেস্ক রিপোর্ট

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম-সাধনা, সংযম ও আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ শেষে মুসলিম উম্মাহর ঘরে আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে ঈদুল ফিতর। এই আনন্দের দিনে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও বিশেষ করে ছোটদের মাঝে ভালোবাসা ও খুশি ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রচলিত রীতি হলো ‘ঈদ সালামি’। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এই সালামি দেওয়া-নেওয়া কি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ?

 

ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

 

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

 

সালামি দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতাও জরুরি। অপচয়, প্রদর্শন বা প্রতিযোগিতার মানসিকতা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারও মনে কষ্ট দেওয়া বা সামাজিক চাপে পড়ে সালামি দেওয়া উচিত নয়।

ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য শুধু আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে রয়েছে কৃতজ্ঞতা, তাকওয়া ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা। তাই বলা যায়, ঈদ সালামি দেওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ নয়; বরং এটি একটি বৈধ সামাজিক রীতি। তবে এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও আনন্দ ভাগাভাগি করা।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’ এশিয়া পোস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top