
মাহমুদুল হাসান, বানারীপাড়া (বরিশাল)
বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে আলোচিত নেতা গোলাম মাহমুদ (মাহবুব মাস্টার) দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে।
গত ২৮ জানুয়ারি নিজের ফেসবুক আইডিতে একাধিক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। প্রথম স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন `ধানক্ষেতে এখন ধানের চেয়ে আগাছা বেশি জন্মেছে।’
কিছুক্ষণ পর আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি বলেন- `কথা দিয়েছিলাম বিএনপির দুঃসময়ে দল ছেড়ে যাব না। কথা রেখেছি। এখন মনে হয় সুবাতাস বইছে, তাই প্রয়োজনটাও শেষ হয়ে গেছে। আমাকে বিজয় দিতে হবে না, আমিই বিদায় নিলাম। তাকিদের জন্য শুভকামনা রইল। আল্লাহ হাফেজ।’
এরপর ২৯ জানুয়ারি তিনি নিজের ফেসবুকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বরিশাল জেলা দক্ষিণ বরাবর দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত আবেদনপত্র পোস্ট করেন। এই আবেদন প্রকাশের পর থেকেই তাঁর পদত্যাগের পেছনের কারণ ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।
নিজের বক্তব্যে মাহবুব মাস্টার বলেন, তিনি সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বানারীপাড়ায় খাল খননের জন্য এলে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন তিনি বিএনপির একজন ত্যাগী, সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে বর্তমানে বিএনপি আর সেই আদর্শের দলে নেই বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন- ‘এখন দলটি চাঁদাবাজ, ধান্দাবাজ ও টেন্ডারবাজদের দখলে। আমি মানবতার রাজনীতি করি, সেই কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আদর্শকে অনুসরণ করব।
এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জানুয়ারি বাইশারী ইউনিয়নের নুরানী মাদ্রাসা মাঠে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নান মাস্টারের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এক উঠান বৈঠকে মাহবুব মাস্টার তাঁর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মীসহ যোগদান করেন।
এসময় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নান মাস্টার তাঁদের গলায় দলীয় লাল-সবুজ মাফলার পরিয়ে দেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বানারীপাড়া সহ বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




