
৭৯টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। সংখ্যাটা বিরাট এবং নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে এই সংখ্যাটা বড় ভুমিকা রাখতে পারে। যদি ধরে নেই, বিএনপি ১৮০ আসনে জয়ের টার্গেট সেট করেছে। তাহলে তার মধ্য ৭৯টি আসন জেতা তাদের জন্য কঠিন, অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে উঠবে। যেটা দলটির জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বিদ্রোহী প্রার্থী হয় কারা?
– যাদের ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক আছে, যারা টাকাওয়ালা এবং যাদের দলের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর গাটস আছে। অর্থাৎ এরা প্রভাবশালী। কোথাও কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীরা মূল প্রার্থীর চেয়েও বেশি প্রভাবশালী হয়। যেমন- রুমিন ফারহানা, হাসান মামুন, সাইফুল নিরব। কখনো কখনো বিদ্রোহীরা জিতেও যায়।
সাধারণত দেখা যায়, কোন আসনে ১ম নেতা দলীয় মনোনয়ন পেলে, ২য় নেতা বিদ্রোহী হয়। আবার দ্বিতীয় নেতা মনোনয়ন পেলে ১ম নেতা বিদ্রোহী হয়। বাইরে থেকে নতুন কেউ এসে মনোনয়ন নিলে ১ম ও ২য় নেতা একজোট হয়ে একজন বিদ্রোহী হয়। কাজেই প্রতিটি বিদ্রোহী প্রার্থী মানেই শক্তিশালী কেউ।
এই ৭৯টি আসনে বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যাবে। যার সুবিধা পাবে জামায়াত। বিএনপিকে ঘরের ও বাইরের ‘শত্রুর’ সাথে লড়াই করতে হবে।
গত চার সপ্তাহে তারেক রহমান প্রচুর চেষ্টা করেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসিয়ে দিতে। অনেককে পেরেছেন, ৭৯টি আসনের ৯২ জনকে ম্যানেজ করতে পারেননি।
তবে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত এই চেষ্টা তিনি করেই যাবেন। হয়তো কিছু বিদ্রোহী শেষ পর্যন্ত ম্যানেজ হয়ে যাবে এবং সেটা বিএনপির জন্যই ভালো।
যদি ধরে নেই তারেক রহমান ৩০টি আসনের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ম্যানেজ করতে পারবেন, তারপরও ৫০টি আসন থাকবে গলার কাঁটা হয়ে।
বিদ্রোহী প্রার্থী সেসব আসনেই হয়, যেখানে দলের জেতার সম্ভাবনা থাকে। যে আসনে জামায়াত জিতবে বলে আগে থেকেই বোঝা যায়, সেখানে বিএনপির কেউ বিদ্রোহী হবে না সাধারণত। যে কারণে একজন বিদ্রোহী প্রার্থী মানেই একটি সম্ভাবনাময় আসন হারানোর শঙ্কা।
আরেকটি সমস্যা হলো, বিদ্রোহীরা জানেন- ভোটে জিতলে তাদের সমাদর করে গুলশানে ডেকে নেয়া হবে। বহিষ্কার হলো আইওয়াশ মাত্র। কাজেই তারা জিততে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
এছাড়া যেসব বিদ্রোহী ভোটের আগমুহূর্তে দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে বসে যাবেন, তাদের কর্মীরা পড়বে বিব্রতকর অবস্থায়। অনেকে রাগ করে কেন্দ্রেই যাবে না।
তাছাড়া তাদের মার্কাও ব্যালট পেপারে থাকবে। যে কারণে তার একান্ত সমর্থকরা অনেকেই হয়তো ওই মার্কাতেই ভোট দেবেন। আবার প্রার্থীও চিন্তা করতে পারেন- কিছু ভোট পেলে অন্তত জামানতটা ফেরত পাওয়া যাবে।
কাজেই ৭৯ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির জন্য বড় মাথা ব্যথার কারণ।
আহমেদ বায়েজীদ
সাংবাদিক
(লেখকের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে সংগৃহীত)




