জুমার খুতবা : জাকাত আদায়ের গুরুত্ব

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রজ্ঞা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সকল বিষয় পরিচালনা করেন। তিনি আমাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছেন যা সম্পদের প্রবৃদ্ধি ও পবিত্রতার জামানত দেয়। আমি তাঁর প্রশংসা করি কারণ তিনি তাঁর কিতাবে উৎসাহ প্রদান ও সতর্কীকরণের মাধ্যমে আমাদের উপদেশ দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও মাওলা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল; যিনি আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সেই সকল সঙ্গীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যারা আল্লাহর তাওফিক ও প্রদর্শিত পথে ধন্য হয়েছেন।

আম্মা বা’দ

লোকসকল! আল্লাহ তাআলা মানুষের মাঝে জীবনোপকরণ বণ্টন করে দিয়েছেন যাতে তারা একে অপরের সাহায্য নিতে পারে। তিনি কাউকে অভাবী করেছেন আর কাউকে করেছেন ধনী। তিনি ধনীদের সম্পদে সাহায্যপ্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যাতে সম্পদ কেবল ধনীদের মাঝেই আবর্তিত না হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, এবং তাদের (ধনীদের) সম্পদে সাহায্যপ্রার্থী ও বঞ্চিতদের জন্য হক রয়েছে। (সুরা জারিয়াত: ১৯)

জাকাত প্রত্যেক স্বাধীন, জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ যদি সে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় এবং তার ওপর এক বছর অতিবাহিত হয়। জাকাত ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ এবং আর্থিক ইবাদতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বারবার নামাজের সাথে জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

জাকাত ত্যাগ করার ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে অনেক আয়াত ও হাদিস বর্ণিত হয়েছে। নবী (সা.) বলেছেন, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু সে তার যাকাত আদায় করেনি, কেয়ামতের দিন সেই সম্পদকে একটি বিষধর সাপের রূপ দেওয়া হবে, যার চোখের ওপর দুটি কালো দাগ থাকবে। সাপটি তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে এবং সেটি তার দুই গালে দংশন করে বলবে, আমিই তোমার সেই সম্পদ, আমিই তোমার জমিয়ে রাখা সম্পদ। (সহিহ ইবনে হিব্বান)

নবীজি (সা.) আরও বলেন, যে কোনো ব্যক্তি যার সম্পদ আছে কিন্তু সে জাকাত দেয় না, কেয়ামতের দিন সেই সম্পদকে আগুনের পাতে পরিণত করা হবে। এরপর তা দিয়ে তার কপাল, পাঁজর এবং পিঠে দাগ দেওয়া হবে। সেই দিনটি হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ শাস্তি চলতে থাকবে, তারপর সে তার ঠিকানা জান্নাত বা জাহান্নামের দিকে দেখতে পাবে। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ তাআলা বলেন,যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তুমি তাদের বেদনাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দাও। যে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে আর তা দিয়ে তাদের কপালে, পার্শ্বদেশে ও পিঠে দাগ দেয়া হবে, (আর তাদেরকে বলা হবে) এটা হল তাই যা তোমরা নিজেদের জন্য স্তুপীকৃত করেছিলে, কাজেই যা জমা করছিলে তার স্বাদ গ্রহণ কর। (সুরা তওবা: ৩৪, ৩৫)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, তোমরা নামাজ কায়েম কর ও জাকাত দাও এবং যে নেক আমল তোমরা নিজদের জন্য আগে পাঠাবে, তা আল্লাহর নিকট পাবে। তোমরা যা করছ নিশ্চয় আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। (সুরা বাকারা: ১১০)

আল্লাহ আমাদেরকে কোরআনের মাধ্যমে বরকত দান করুন, এতে যে আয়াতসমূহ ও সুস্পষ্ট বাণী রয়েছে তার দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন। আর আমার ও আপনাদের জন্য এবং সকল মুসলমানের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। জাগো নিউজ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top