কলাম : এনসিপি শেষ পর্যন্ত কী করবে

সানাউল্লাহ সাগর
রাজনীতির অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন হলো, এনসিপি একা নির্বাচন করবে, নাকি কোনো জোটে যাবে? যদিও দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বরাত দিয়ে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এনসিপি ৩০০ আসনেই একক প্রার্থী দেবে, কোনো জোটে যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে তারা দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রিও শুরু করেছে, যা তাদের একক অংশগ্রহণের প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন হচ্ছে, এনসিপি শেষ পর্যন্ত বিএনপি কিংবা জামায়াতের জোটে যোগ দিতে পারে। কারণ কিছু গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে সেরকম সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা বিএনপির কাছে ১০টি আসন চেয়েছে। যদিও দলটি এ ধরনের খবর অস্বীকার করেছে, কিন্তু রাজনৈতিক মহলে সন্দেহের মেঘ এখনো কাটেনি। বরং উল্টো, আলোচনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিএনপি যদি তাদের প্রত্যাশা পূরণ না করে, তাহলে এনসিপি হয়তো জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের দিকেও ঝুঁকতে পারে।
কিন্তু বাস্তবতা কিছুটা কঠিন। বিএনপি হয়তো সর্বোচ্চ ১০টি আসন ছাড়তে পারে, আর জামায়াতের জোটে গেলে ২০টির বেশি নয়; কিন্তু এবারের নির্বাচনে এনসিপির প্রত্যাশা অনেক। তাই এই সীমিত আসনসংখ্যা এনসিপির প্রত্যাশার সঙ্গে যায় না। তাছাড়া, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, জোটে গেলেও দলগুলোকে নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। ফলে ধানের শীষ বা দাড়িপাল্লা মার্কার বাইরে শাপলাকলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে এনসিপি প্রার্থীদের জেতার সম্ভাবনা কম।
এখন বাস্তবতা হলো বিএনপি কিংবা জামায়াত কোনো জোটেই এনসিপিকে নিয়ে রিস্ক নিতে চাইবে না। আবার বিএনপি জোটে গেলে তাদের রাজনীতিতে দ্বিতীয় সারিতে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে। আর জামায়াতের সঙ্গে গেলে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিতর্ক তাদের ঘাড়ে এসে পড়বে। এই দুই বিপরীত চাপের মধ্যে দলটি কৌশলগতভাবে একক নির্বাচনের পথ বেছে নিতে পারে।
তবে বর্তমান অবস্থায় রাজনীতির মাঠে একা লড়াই করাও সহজ নয়। এনসিপি নতুন দল হিসেবে মাঠ পর্যায়ের সংগঠন, প্রভাবশালী প্রার্থী, এবং ভোটার-সংযোগে এখনো দুর্বল। সে কারণে ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দাঁড় করানো রাজনৈতিকভাবে সাহসী পদক্ষেপ হলেও বাস্তবতার বিচারে তা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ভোটের মাঠে অভিজ্ঞতার অভাব ও সংগঠনগত দুর্বলতা তাদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে, বিএনপি-জামায়াত বলয়ের বাইরে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি নতুন, মুক্তিযুদ্ধপন্থী, প্রগতিশীল রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রত্যাশা করছে। তারা চায়, এমন একটি বিকল্প শক্তি দাঁড়াক যা দেশের রাজনীতিকে অতীতের মেরুকরণ বা পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে বের করে আনবে। এনসিপি যদি সত্যিই নিজেদের নাগরিক-রাজনীতি বা সংস্কারমুখী রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে দাঁড় করাতে চায়, তাহলে বিএনপি-জামায়াতের পরিবর্তে গণঅভ্যুত্থান বা নাগরিক সমাজঘনিষ্ঠ শক্তিগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়াই তাদের জন্য  কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে।
আর এভাবে এনসিপি নিজেদের তৃতীয় শক্তির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারলে তারা শুধু এই নির্বাচনে নয়, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতেও টেকসই অবস্থান তৈরি করতে পারবে। তবে সেই পথে যেতে হলে দরকার হবে সঠিক ডিসিশান ও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় জনসম্পৃক্ততা।
লেখক : কবি ও কথা সাহিত্যিক
(লেখাটি লেখকের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top