মোঃ হানিফ সরদার, গৌরনদী (বরিশাল)
ফসলের মাঠের পানি নিষ্কাশনের সরকারি হালট দখল ও ভরাট করে চাষের জমি ও বাড়ি তৈরি করেছেন স্থানীয়রা। ওই হালটকে উদ্ধার ও খননের নামে এখন স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের নিজেদের চলাচলের জন্য রাস্তা বানাচ্ছেন। পরিকল্পনা সফল করতে তারা গায়ের জোরে কেটে নিধন করেছেন প্রতিপক্ষের অসংখ্য ফলদ ও বনজ বৃক্ষ। এ নিয়ে ওই গ্রামে দু-পক্ষের বিরোধ এখন চরমে। তাদের মধ্যে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকাবাসী। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের বাসুদেব পাড়া গ্রামের।
সরেজমিন ওই গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামটির বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠের পানি নিষ্কাশনের সরকারি হালট দখল ও ভরাট করে চাষের জমি ও বাড়ি তৈরি করেছেন স্থানীয়রা। ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাওয়া ওই হালটটি উদ্ধার ও খননের নামে ভেকু দিয়ে একটি সরু ড্রেন খনন করাচ্ছেন এবং সেখান থেকে তোলা মাটি দিয়ে হালটের ভেতরেই একটি মাটির রাস্তা বানাচ্ছেন এলাকার প্রভাবশালী মনির হাওলাদার ও সোহাগ হাওলাদার।
ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বলছেন, ফসলের মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য হালট খনন করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের মূল উদ্দেশ্য নিজেদের বাড়ির লোকজনের চলাচলের জন্য সরকারি হালট দখল করে রাস্তা নির্মাণ করা।
এ নিয়ে ও সাধারণ গ্রামবাসী ও পক্ষ-বিপক্ষের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বাসুদেবপাড়া মৌজার বিএস ৯০৮ ও ৯৯৭ নং দাগের উক্ত সরকারি হালটটির বেশ কিছু অংশ দখল ও ভরাট করে চাষের জমি বানিয়েছেন স্থানীয় আনোয়ার সরদার, আরজ আলী সরদার, রাজু সরদার, মন্নাত হাওলাদার, মোস্তফা খানসহ অনেকে। বাকি কিছু অংশ দখল ও ভরাট করে বাড়ি তৈরি করেছেন সরোয়ার সরদার। অবশিষ্ট দখল ও ভরাট করে আব্দুর রহিম সরদার ও বিউটি বেগম ফলিয়েছেন বনজ বৃক্ষ এবং হাসিনা বেগম ফলিয়েছেন ফলদ বৃক্ষ। এভাবে গত দুই তিন যুগের ব্যবধানে এলাকার লোকজন মিলে পুরো হালটটিকে ‘গিলে খেয়েছেন’।
অপরদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী মনির হাওলাদার, সোহাগ হাওলাদার ও তাদের স্বজনরা মিলে ওই হালটটিকে উদ্ধার ও খননের নাম করে গায়ের জোরে নিজেদের বাড়ির লোকজনের চলাচলের জন্য মাটির রাস্তা বানাচ্ছেন। এ কাজ করতে গিয়ে তারা গায়ের জোরে হাসিনা বেগম (৬৫) নামের প্রতিপক্ষ এক বিধবা নারীর আম, কাঠাল ও সুপারির গাছসহ ফলদ বৃক্ষ কেটে নিধন করেছেন। আব্দুর রহিম সরদার, বিউটি বেগমের রেন্ট্রি কড়াই, চাম্বলসহ বনজ বৃক্ষ কেটে ফেলেছেন। এ সকল বৃক্ষ কেটে ফেলার সময় ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বললেও এখন তারা তা দিতে অস্বীকার করছেন বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।
ক্ষোভের সাথে বিউটি বেগম বলেন, গায়ের জোরে ওরা আমার দামি দামি রেইন্ট্রি কড়াই গাছ কেটে ফেলেছে। ওরা কারো বাধা মানছেনা।
কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বিধবা হাসিনা বেগম (৬৫) বলেন, আমি অনেক অনুনয় বিনয় করে তাদেরকে বলেছি, আর ১মাস পরেই আমার গাছের আম, কাঠালগুলো পেকে যাবে। আপনারা তার পরে গাছগুলো কাটেন। ওরা আমার কথা শোনেনি। গায়ের জোরে তারা কচি ফলসহ আমার গাছগুলোকে কেটে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চাই।
অভিযুক্ত প্রভাবশালী মনির হাওলাদার বলেন, এলাকার কৃষকের ফসলের মাঠের পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা সচলের জন্য বন্ধ হওয়া হালটটি খনন ও রাস্তা নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে আমি গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বাটাজোর ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে একটি আবেদন করি। তিনি আমাকে অনুমতি দেয়ায় আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজেদের অর্থে হালটটি খনন ও রাস্তা তৈরি করছি। এর জন্য যাদের গাছ কাটা পড়েছে তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
যদিও বাটাজোর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, অনুমতি ছাড়া সরকারি জমি বা হালট খনন ও রাস্তা তৈরির সুযোগ কারো নেই। আর আমি কাউকে এ রকম কোন অনুমতি দেইনি।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, আমি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে অথবা ভূমি সংশ্লিষ্ট কাউকে সরেজমিন জমিটির খোঁজ নেয়ার জন্য পাঠিয়ে দেখবো। জমিটি যদি সরকারের ১নং খাস খতিয়ান ভূক্ত জমি হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে আমরা সরেজমিন দেখে পরবর্তি আইনগত সিদ্ধান্ত নেব।




